শাহ্ জামাল :
কুষ্টিয়ার ৪টি আসনেই টাকা উড়ছে । আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই মাত্রা বাড়ছে এর চাহিদায়। উৎসবমুখর নির্বাচনের ডামাডোলে যে কোন উপায়ে বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া প্রার্থীরা। ৪টি আসনেই একই চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রকাশ্যে টাকা ছড়ানোর ভিডিও ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে কুষ্টিয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল হক চৌধুরীর। অনুসন্ধান টিম ইতোমধ্যে শোকজ নোটিশও জারি করেছে তার বিরুদ্ধে।
কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলায় রয়েছে ৪টি সংসদীয় আসন। এখানে ভোট ভোটার ১৬ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯’শ ১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লক্ষ ২২ হাজার ৫’শ ১৬ জন। মহিলা ভোটার ৮ লক্ষ ২১ হাজার ৩’শ ৮৮ জন। দৌলতপুর উপজেলায় রয়েছে ১৪ ইউনিয়ন। সংসদীয় আসনে কুষ্টিয়া-১। মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৮০ হাজার ২’শ ৮৭ জন। পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৯১ হাজার ২’শ ২৩ এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৬৪ জন। ভেড়ামারা উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন এবং মিরপুর উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-২ আসন। এখানে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৫১ হাজার ৯’শ ৩৬ জন। পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৪’শ ৫ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৫’শ ২৮ জন। এর মধ্যে ভেড়ামারা উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৮৭ হাজার ৬’শ ৩৬ জন এবং মহিলা ভোটার ৮৮ হাজার ১১ জন। মিরপুর উপজেলায় রয়েছে ২ লক্ষ ৭৬ হাজার ২’শ ৮৭ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লক্ষ ৩৮ হাজার ৭’শ ৬৯ জন এবং মহিলা ভোটার ১লক্ষ ৩৭ হাজার ৫’শ ১৭ জন।
১৩ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া সদর উপজেলা। সংসদীয় আসন কুষ্টিয়া-৩। এখানে মোট ভোটার ৪লক্ষ ১৫ হাজার ৯৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৫ হাজার ১’শ ৫৫ জন। এবং মহিলা ভোটার ২লক্ষ ৯ হাজার ৯’শ ৩৬ জন। দুটি উপজেলা খোকসা-কুমারখালি নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন কুষ্টিয়া-৪। এখানে মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৯৬ হাজার ৫’শ ৯৫ জন। এর মধ্যে কুমারখালি উপজেলায় মোট ভোটার ২ লক্ষ ৮২ হাজার ৬’শ ৪২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৪’শ ১৩ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৪০ হাজার ২’শ ২৭ জন। খোকসা উপজেলায় রয়েছে ১লক্ষ ১৩ হাজার ৯’শ ৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৭ হাজার ৩’শ ২০ জন এবং মহিলা ভোটার ৫৬ হাজার ৬’শ ৩৩ জন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার ৪টি আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৩১ জন। এরমধ্যে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে ২ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে ভোট যুদ্ধে লড়াই করছেন ২৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে কুষ্টিয়া-১ আসনে ১০ জন, কুষ্টিয়া-২ আসনে ৬ জন, কুষ্টিয়া-৩ আসনে ৫ জন এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনে ৮ জন। নির্বাচনে বিজয়ী হতে মরিয়া সকল প্রার্থীই। তবে জোরে সরে লড়ে যাচ্ছেন নৌকা এবং এন্ট্রি নৌকার প্রার্থীরা। টাকাও খরচ করছেন তারা। নিয়মিত ভাবে প্রদান করতে হচ্ছে কর্মীদের খরচ, মাঠ খরচ, অফিস খরচ সহ কিছু ভোটারদের নগদ অর্থ দেওয়ার খাতে। এরমধ্যে শক্তিশালি অবস্থানে রয়েছে যে সকল প্রার্থী তারাই টাকা উড়াচ্ছেন বেশি। কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে ত্রি-মুখী লড়াই এর সম্ভাবনা। নৌকার প্রার্থী আ ক ম সরোয়ার জাহান বাদশা, ট্রাক মার্কার সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরী এবং ঈগল মার্কার নাজমুল হক পটল। প্রকাশ্যে দিবালোকে টাকা ছড়ানোর ভিডিও ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে রেজাউল হক চৌধুরীর। অনুসন্ধান কমিটির শোকজ ও খেয়েছেন তিনি। একই চিত্র আরো ৩টি আসনেও। নৌকা এবং এন্ট্রি নৌকার লড়াইয়ে এখন চাঙ্গা সকল নেতা কর্মীই। তাদের কে নিয়মিত অর্থ দিয়ে চাঙ্গা করে রাখতে হচ্ছে প্রার্থীদের। কুমারখালির এক ভোটার নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, এখানে নৌকা এবং ট্রাক প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। মাঠ দখলে রেখেছে নৌকা এবং ট্রাক। এ ক্ষেত্রে প্রচুর টাকা ছড়ানো হচ্ছে। একই অবস্থার কথা জানালেন কুষ্টিয়া-২ আসনের মিরপুর উপজেলার এক ভোটার রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, এখানে সরব কামারুল আরেফিন। তার মার্কা ট্রাক। এ নির্বাচনে তার ভোট বিপ্লব হবে। আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মীই তার সাথে রয়েছে। তিনিও প্রচুর টাকা উড়াচ্ছেন মাঠে। অলিতে গলিতে ট্রাকের অফিস। নেতাকর্মীদের প্রতি রাতেই হাত খরচের টাকা দিতে হয়। ভেড়ামারাতেও একই অবস্থা। মাঠ দখলে আছে নৌকা এবং ট্রাকের। প্রচুর অফিস রয়েছে দুই প্রার্থীরই। ভোট উৎসব প্রানবন্ত করতে বেড়েছে প্রচুর নির্বাচনী ব্যায়। জুনিয়াদহ এলাকার একজন ভোটার বলেন, প্রার্থীদের প্রতি রাতেই এখন ব্যায় হয় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। ২টি উপজেলা। শত শত অফিস। নেতাকর্মী। বিজয় ছিনিয়ে আনতে মরিয়া প্রার্থী এবং সক্রিয় কর্মীরা।
এ বিষয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভেড়ামারা উপজেলার সহকারী রিটানিং অফিসার আকাশ কুমার কুন্ডু বলেছেন, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা নির্বাচনী ব্যায় করতে পারবেন।